Friday, March 27, 2026

ভালোবাসার নীল আকাশ (১০ম পর্ব)

 ভালোবাসার নীল আকাশ ( দশম পর্ব)

  তপেশ বিহ্বলের মত কিছুটা সময় দাঁড়িয়ে রইলো। অর্পণকে যখন সকলে ধরাধরি করে গাড়িতে উঠাচ্ছে তখন তপেশ অর্পণের মুখটা দেখতে পেয়ে নিজের অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে আসে "অর্পণদা।"
 সুন্দর সুপুরুষ একটি নির্ভীক ছেলে। যে কোনদিনও অন্যায়ের সাথে কখনো আপোষ করেনি। নিজের জীবনের পরোয়া না করে সবসময় ন্যায়ের পথে চলেছে। আজ তার এই পরিস্থিতি দেখে তপেশ পুরো বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। দু'দিন  আগে তার জীবনে একটা ভুল বিয়ে আর আজ বিয়ের দিনে অর্পণদার জীবনের এই পরিণতি তার সবকিছু যেন লন্ডভন্ড হয়ে যাচ্ছে। 
 পাড়া হোক কিংবা বেপাড়া অর্পণদাকে যে কেউ যে কোন বিপদে ডাকলেই তার কাছ থেকে উপকার পেয়েছে। পড়াশুনায় প্রচণ্ড মেধাবী অর্পণদা পরবর্তীতে তাই উকালতিকে তার জীবনের পেশা হিসাবে বেছে নিয়ে আইনী মারফত সকলের পাশে দাঁড়িয়েছে। কেস লড়ে টাকা ইনকাম করা তার জীবনের লক্ষ্য কোনদিনও হয়ে ওঠেনি। ন্যায় বিচার পাইয়ে দেওয়ায় ছিল তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। সেই অর্পণদার এই পরিস্থিতি! ঈশ্বর সত্যিই কি অন্ধ? তিনি কি কিছুই দেখতে পান না? তপেশের বাবার জমি সংক্রান্ত ব্যাপারেও কোন সমস্যা হলে অর্পণই তাঁর পাশে থেকে তাঁকে সবসময় সাহায্য করেছে। তপেশ ভাবতে থাকে নিশ্চয় কোন কেস নিয়ে সমস্যা হওয়াতে এবং অর্পণদা সেই কেস লড়াতে তারা ভয় পেয়ে অর্পণদাকে সরিয়ে দিতে চেয়েছে। কারণ আজ পর্যন্ত অর্পণদা কোন কেস হারেনি। কোন মিথ্যাচারীর কেস কোনদিন অর্পণদা হাতে নেয়নি। 
  তপেশ আবার হাঁটতে শুরু করে। প্রকৃত ঘটনা কিছু জানতে পারে না। এটা এমন একটা ঘটনা এই মুহূর্তে কারো কাছে জানতে চাওয়া মানে মনুষ্যত্বহীনতার পরিচয় দেওয়া। ট্রেনটা মিস করলে ঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারবে না হোস্টেলে ভেবে সে জোরে পা চালায়।
  মানুষের জীবনে কত রকম ঘটনায় না ঘটে। সবাই ভাবে এক আর হয় আর এক! জীবনে দেখা স্বপ্নগুলি অধরায় থেকে যায় সব সময়। যে মেয়েটির আজ অর্পণদার সাথে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল সে তো তার বুকের মাঝে অনেক স্বপ্ন সাজিয়ে নববধূ হয়ে অর্পনদার অপেক্ষায় বসে ছিল। মুহূর্তেই তার জীবনের সব স্বপ্ন ভেঙেচুরে তছনচ হয়ে গেলো। সেই পরিবারে অর্পণদার এই  খবর পৌঁছালে পরিবারটির উপর আকাশ ভেঙে পড়বে ভাবলেই শরীরের সমস্ত রক্ত হিম হয়ে যাচ্ছে তপেশের। এত ভালো একটা মানুষের জীবনের এই পরিণতি!
 তপেশ গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার পর অনেকদিন আর গ্রামে ফেরেনি। দুয়েকজনকে ফোন করে অর্পণদার এই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর জেনেছে। অর্পণদা যে এখন কোমায় আছে তাও জেনেছে। 
      আর এদিকে নলিনী কলেজে ভর্তি হল। তাপসবাবু তার জমির কিছুটা বিক্রি করে নলিনীর জন্য এক গাড়ি কিনে বসলেন। গ্রামের লোকেরা মুখ টিপে হাসাহাসি, টোন-টিটকারি যে তার কানে আসেনি তা কিন্তু নয়। কারণ সেই যে ছেলে ঠাকুমার কাজ শেষে বেরিয়েছে তারপর আর আসেনি। কিন্তু মাসের শেষে ছেলের বরাদ্দ টাকা তাপসবাবু ঠিক পাঠিয়ে দেন। বাবার খবরাখবরও তপেশ রাখে ফোনের মাধ্যমেই। কিন্তু নলিনী সম্পর্কে কোন কথা বাবার কাছে  জিজ্ঞাসা করতে সে সাহস পায় না। 
 গ্রামে থেকেও যে লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হওয়া যায় সেটাই যেন তাপসবাবু নলিনীকে দিয়ে তার ছেলেকে দেখিয়ে দিতে চান। 
 নলিনী দু' একবার বাপেরবাড়িতে গেলেও সে দিনই ফিরে এসেছে তার বাবা অর্থাৎ শ্বশুর একা থাকবেন বলে। তাপসবাবুও এখন যেন নলিনী ছাড়া অসহায়! পড়াশুনার মধ্যেই নলিনী জমিজমা, বিষয়সম্পত্তি এমনকি সংসারের সবকিছুতেই সিদ্ধহস্ত হয়ে উঠেছে। শুধু শ্বশুর,বৌমা নয় এখন তারা বাপমেয়ের থেকেও দু'জন দু'জনের কাছের বন্ধু হয়ে উঠেছেন। দু'জনের মনের কষ্টের দিকটা পরস্পর গোপন রেখেই চলেন।
 কোন কাজেই নলিনীর কোন না নেই। সবকিছুতেই সে যেন সিদ্ধহস্ত। সে সংসার,পড়াশুনা, বিষয় সম্পত্তি এমন কী পাঁচ সাতটা কাজের লোক থাকার পরেও শ্বশুরের সেবাযত্ন সব কিছুই তার নজর এড়ায় না। বয়স জনিত কারণে অনেক সময় জমিজমা সংক্রান্ত কোন ঝামেলায় নলিনী তাপসবাবুকে আর জড়ায় না নিজেই সমস্যার সমাধান করে থাকে। সবকিছু সত্ত্বেও বৃদ্ধের কোথাও যেন একটা কষ্ট কাজ করে তা নলিনী তাঁর মুখের দিকে তাকালেই বুঝতে পারে। একমাত্র সন্তান ছেড়ে থাকার যে যন্ত্রণা তা  মাঝে মাঝে তাঁর মুখে ফুটে ওঠে। 
 স্কুলে নিয়মিত যাতায়াত করতে না পারলেও পরীক্ষার রেজাল্ট তার মন্দ নয়। আসলে ছেলেবেলা থেকেই নলিনী ছিল খুব মেধাবী। কোন প্রাইভেট শিক্ষক কোনদিন তার পরিবার তার জন্য রাখতে পারেননি। সে যেটুকু পড়াশুনা করেছে নিজের চেষ্টায় আর মেধার গুনে। 
  খুব সুন্দরী সে না হলেও চেহারা তার মন্দ নয়। অভাবের মধ্যে মানুষ হওয়ার ফলে চেহারার লালিত্য সেভাবে ছিল না। ভালো থাকা,খাওয়া আর পরার দৌলতে এখন সে রীতিমত রূপসী। নিজের ব্যক্তিত্ব আর পুরুষের কুনজর থেকে নিজেকে রক্ষা করার সমস্ত গুন তার মধ্যে আছে। 
  সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে জীবন ঠিক এগিয়ে যায়। আগে তপেশ মাঝে মধ্যে বাড়ি আসলেও বিয়ের পর থেকে মোটামুটি আসা বন্ধ করেছে বলাই ভালো।
   নলিনী যখন বারো ক্লাসেভর্তি হয় প্রথম দিন থেকেই স্কুলে নলিনীর খুব কাছের বন্ধু হয়ে উঠেছে ময়ূর। ময়ূরের কাছেই নলিনী অর্পণের সমস্ত ঘটনা শুনেছে। কিন্তু যে মেয়েটির সাথে অর্পণের বিয়ে ঠিক হয়েছিল তার সম্পর্কে অর্পণের পরিবার কিংবা ময়ূর কিছুই জানে না। ময়ূর কোনকিছুই লুকায়নি নলিনীর কাছে। অর্পণের এই ঘটনার জন্য সে নিজেকেই দায়ী মনে করে। তার কেসটা নেওয়ার পর থেকেই অর্পণকে নানান হুমকির সম্মুখীন হতে হয়েছে আর যার জের স্বরূপ আজ অর্পণের এই পরিস্থিতি!
মাত্র অল্প দিনের বন্ধুত্ব হলেও দু'টি নারী তাদের জীবনে হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোন এক বেদনাদায়ক ঘটনা থেকে খুব কাছাকাছি চলে আসে। ময়ূরের কাছেই নলিনী জানতে পারে বিয়ের দিনে ওই ঘটনা ঘটার পর ডাক্তার অপারেশন করে আটচল্লিশ ঘণ্টা সময় চেয়েছিলেন অর্পণের জ্ঞান ফেরার জন্য। কিন্তু চারদিনেও অর্পণের জ্ঞান ফেরেনি। চারদিন পর ডাক্তার জানিয়ে দেন অর্পণ কোমায় চলে গেছে। কবে জ্ঞান ফিরবে আদতেও আর ফিরবে কিনা তাঁরা এই মুহূর্তে কিছুই জানাতে পারছেন না। প্রায় প্রতিদিনই অর্পিতা হাসপাতালে আসে কখনো মা, কখনো বা বাবাকে সাথে নিয়ে। তাই এখন আর নিয়মিত স্কুলে আসতে পারে না সে। 
  সময় কেটে যাচ্ছে ঝড়ের গতিতে। ময়ূর স্কুল ছুটি থাকলেই অর্পণকে দেখতে যায় নিয়ম করে। অর্পিতা এখনো স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারেনি। ময়ূরের জন্যই যে আজ দাদার এই পরিণতি বুঝতে পারলেও মুখ ফুটে সে কথা সে বলতে পারছে না ময়ূরকে। কিন্তু কষ্টে তার বুকের ভিতর ফেটে যাচ্ছে। না পারছে ময়ূরকে কিছু বলতে না পারছে নিজেকে সামলে রাখতে। তবে একটা বিষয় অর্পিতা খেয়াল করেছে দাদা গু*লি*বিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই ময়ূরের দাদার প্রতি অদ্ভুত এক সহণাভুতি। ডাক্তারের সাথে কথা বলা, দাদার খুঁটিনাটি বিষয়গুলো জানা এগুলো যেন ময়ূরের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ হয়ে উঠেছে। ময়ূরের এই কাজগুলো অর্পিতাকে কিছুটা আনন্দ দিলেও এই ঘটনা যে ময়ূরের জন্য ঘটেছে তা সে মন থেকে কিছুতেই মুছে ফেলতে পারছে না। এদিকে নিত্য হাসপাতাল আসা বাড়িতে বৃদ্ধ মা,বাবাকে সামলানো সবকিছু নিয়ে অর্পিতা নাজেহাল। তবে এখন ময়ূরের কথা শুনে রোজ আসা কিছুটা বন্ধ করেছে কারণ ময়ূর তার স্কুলে এই সমস্যার কথা জানিয়ে সপ্তাহে তিনদিন স্কুলে আসবে বলে পারমিশন নিয়েছে। তাই কিছুটা রিলিফ পেয়েছে অর্পিতা। কারণ এই দৌড়াদৌড়ি, ছুটাছুটিতে সে নিজেও কাহিল হয়ে পড়েছে।
 বয়সের ফারাক অর্পিতার সাথে তার দাদার দশ বছরের। সেই হিসাবে ময়ূরের সাথেও অর্পণের অনেকটাই বয়সের পার্থক্য। ময়ূর যেদিন হাসপাতাল আসে আর যদি তার সাথে অন্য কেউ না থাকে যতক্ষণ সে অর্পণের পাশে বসে থাকে ঠিক ততক্ষণই একদৃষ্টে সে অর্পণের দিকে তাকিয়ে থাকে। কখনো বা চুলের ভিতর হাত ঢুকিয়ে মাথায় বিলি কাটতে থাকে। ঠিক এমনই একদিনে ময়ূর অদ্ভুত এক পরিবর্তন লক্ষ্য করে অর্পণের শরীরে। সে দৌড়ে গিয়ে ডাক্তারকে ডেকে আনে।

ক্রমশ 

Wednesday, March 25, 2026

ভালোবাসার নীল আকাশ ( নবম পর্ব)

ভালোবাসার নীল আকাশ ( ৯ম পর্ব)
  
    মেয়ের বয়স সবে আঠারো পেরিয়েছে। গরীবের ঘরের সন্তান তাই মা,বাবা অনেক চেষ্টা করে গ্রামের এক অবস্থাপন্ন ঘরের কলেজ পড়ুয়া ছেলেকে পাত্র হিসেবে নির্বাচন করেছেন। মেয়ে নলিনীর কান্নাকাটি, হাতেপায়ে ধরা কোন আপত্তিই ধোপে টেকেনি। সামান্য কয়েকজন বরযাত্রী নিয়ে বাইশ বছরের ছেলেটি মাথা নত করে বিয়ে করতে আসে। কারণ এই বিয়েতে তারও কোন মত নেই। সবে দ্বিতীয়বর্ষ তার। স্বপ্ন তার আকাশ ছোঁয়া। কিন্তু অবস্থার পরিপেক্ষিতে তারও বিয়েতে রাজি হওয়া। 
  বিয়ের আসরে বর কনে দু'জনেই গম্ভীর। দু'জনেরই মুখ নীচের দিকে। শুভ দৃষ্টিতেও কেউ কারো মুখ দেখলো বলে মনে হল না। কিন্তু বিয়ে হয়ে গেলো। মেয়েও পরদিন শ্বশুরবাড়ি চলে গেলো।
  ফুলশয্যার রাতে তপেশ ঘরে ঢুকে প্রথমেই টিউবলাইট বন্ধ করে দিয়ে বেড সুইচটা জ্বালিয়ে দিয়ে নলিনীর দিকে পিছন ফিরে খাটের উপর পা ঝুলিয়ে দিয়ে বসে বলতে শুরু করলো,
-- শুভ দৃষ্টিতে আমি তোমার মুখ দেখিনি। সেই কারণে হয়ত তুমি ভাবতে পারো আমি অন্য মেয়ের প্রতি আসক্ত। কিন্তু তা নয়। আমি এ বিয়ে করতে চাইনি। আমার ঠাকুমা নাতবৌ দেখার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তার শরীর ভালো নয়। সেটা তুমি নিজেই দেখেছো। বাবার একান্ত অনুরোধে আমার এই বিয়ে করা। আমি এখানে থাকিও না সেটা তুমি নিশ্চয় শুনেছ। তুমি এখানে অনায়াসেই থাকতে পারো সেক্ষেত্রে আমি তোমায় কিছু বলবো না। কিন্তু স্বামী হিসাবে আমি নিজের পায়ে না দাঁড়ানো পর্যন্ত কোন দায়িত্ব যেমন পালন করতে পারবো না ঠিক তেমনই তোমার উপর কোন অধিকার প্রয়োগও করবো না। দু একদিনের মধ্যেই আমি চলে যাবো কলকাতায় যেখানে থাকি। তোমার বাড়ির অবস্থা সম্পর্কে আমি সব জানি। আমার ঠাকুমা তোমায় যে গয়নার বাক্স দিয়েছেন তাতে বেশ কয়েক ভরি গয়না আছে। ইচ্ছা করলে ওই গয়না বিক্রি করে তুমি তোমার জীবনটাকেও নিজের মত করে গড়ে নিতে পারো। ইচ্ছে হলে এখানে থাকতে পারো আবার বাপের বাড়িতেও চলে যেতে পারো। 
 -- তাহলে বিয়েতে রাজি হলেন কেন?
-- ওই যে বললাম বাবার কথাতে। হ্যাঁ বলতেই পারো তোমার জীবনটা নষ্ট করলাম কেন? কিন্তু আমার মনেহয় তোমার জীবনটা এবার তুমি গুছিয়ে নিতে পারবে। পড়াশুনাটা আবার শুরু করো নিজের পায়ে দাঁড়াও। আমিও নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। বাপ, ঠাকুর্দার টাকায় সারাজীবন বসে খেতে আমি চাই না। ইচ্ছে হলে আমার জন্য অপেক্ষা করতে পারো নতুবা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নিজের পছন্দ মত কাউকে জীবন সঙ্গী করতেই পারো। ততদিনে এই পরিবারে অনেক পরিবর্তন হয়ে যাবে। তোমাকে কেউ কোন বাধা দেবেন না। বাবা পুরো বিষয়টাই জানেন।
যাক গে আমার যা বলার ছিল বলা হয়ে গেছে। অনেক রাত হল এবার শুয়ে পড়ো। আজ না হলেও একদিন ঠিক বুঝবে আমি উভয়ের ভালোর জন্যই এ পথ বেছে নিয়েছি।
 নলিনী কোন কথা আর না বলে খাট থেকে নেমে এদিকওদিক কী যেন খুঁজতে থাকে। দেখতে পেয়ে তপেশ বললো,
-- তুমি খাটেই শোও। পাশেই আর একটি ঘর আছে আমি ওখানেই শুয়ে পড়বো। কোন অসুবিধা হবে না।
 নলিনী পুণরায় খাটে উঠে যায়। সেও যেন তপেশের সিদ্ধান্ত জেনে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। কারণ পড়াশুনাটা ছাড়তে সেও কখনো চায়নি এমন কী বিয়েও বসতে চায়নি। কিন্তু বাবার আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকায় উচ্চমাধ্যমিক দিয়েই পড়াশুনায় ইতি টেনেছিল।
 পরদিন তপেশ বেরিয়ে যাওয়ার সময় তার বাবা তন্ময়বাবু তাকে বললেন,
-- অষ্টমঙ্গলা সেরে গেলে হত না? 
-- তোমার সাথে কথা ছিল আমি বিয়ে করবো ঠাকুমাকে নাতবৌ দেখাতে। আমি সে কথা রেখেছি। বৌভাত মিটে গেছে। বাকি আর কোন আমার দায়িত্ব নেই। তবে নিরপরাধ অসহায় মেয়েটির কথা ভেবে একটা অনুরোধ তোমায় করবো। সংসার যাঁতাকলে মেয়েটিকে না বেঁধে রেখে ওকে পড়াশুনাটা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিও।
-- ওকে নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না। ওর দায়িত্ব আজ থেকে আমার। দেখো পরে যেন তোমাকে আফসোস করতে না হয়। 
 আড়াল থেকে নলিনী সব শুনলো। বলা ভালো শ্বশুরের কথা শুনে কিছুটা নিশ্চিতও হল। তপেশ বেরিয়ে গেলো।
 ছেলেবেলাতেই তপেশ তার মাকে হারিয়েছে। ঠাকুমার কাছেই সে মানুষ। মা ছিলেন তাদের পরিবারের একমাত্র সন্তান। দাদু,ঠাকুমা অনেক আগেই মারা গিয়েছেন। আত্মীয়স্বজন বলতে সেরূপ কেউই নেই। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই ঠাকুমাও চলে গেলেন। মৃত্যুর সময় কিংবা মৃত্যুর পর তাকে খবর দেওয়া হলেও তপেশ আসেনি বরং বলা ভালো তার পরীক্ষা চলছিল তাই ইচ্ছা থাকলেও সে আসতে পারেনি। কিন্তু শ্রাদ্ধের দিন সে উপস্থিত হয়। অদ্ভুত ব্যাপার হল পুরো বাড়ির কোথাও সে নলিনীকে দেখতে পায় না। নলিনীকে দেখার জন্য সে যে খুব একটা ব্যাকুল হয়েছিল তা মোটেই নয় কিন্তু কোথাও যেন একটা ইচ্ছা মনের মধ্যে কাজ করছিল। তার বাবা কিংবা বাড়ির কাজের লোকদের কাছে জানতে চাওয়ার সাহস হয়নি। 
 তপেশের বাবা এমনিতেই একটু গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ।
এবার বাড়িতে এসে তপেশ দেখে বাবা যেন শোকে, কষ্টে আরও গম্ভীর হয়ে গেছেন। সব কথার উত্তর মাথা নাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাই করেন। শ্রাদ্ধের কাজের জন্য যারা বাড়িতে আজ এসেছেন তারা তাদের নিজেদের মনেই কাজ করছেন কেউ যে বাবার কাছে এসে কিছু জিজ্ঞাসা করছে তা মোটেই নয়। কিন্তু কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবেই চলছে। মনেহচ্ছে অলক্ষ্যে কেউ যেন কাজ করিয়ে নিচ্ছে। তপেশ নিজেকে এ বাড়িতে আজ অবাঞ্ছিত মনে করছে। কেউই সেভাবে তার সাথে কথাও বলছে না। বাবার কাজ শেষ হওয়ার পর ডাক পড়লো তপেশের। তখন তাপসবাবু ভিতরের ঘরে চলে গেলেন। এতটাই ধীরপায়ে হেঁটে গেলেন খড়ম পরে সিমেন্টে বিন্দুমাত্র আওয়াজ হল না। অনাহুতের মত তপেশ তার ঠাকুমার কাজ সেরে উঠলো। সামনে তাকিয়ে দেখে বাবা পুনরায় এসে দাঁড়িয়েছেন। পাশে দাঁড়ানো তার বিয়ে করা বউ নলিনী। মাথায় অনেকটাই ঘোমটা টানা মুখটা দেখা যাচ্ছে না। বাবা ইশারায় তপেশকে সরে যেতে বললেন। তপেশ সরে দাঁড়ালে নলিনী গিয়ে সেই আসনে বসে ঠাকুরমশাইয়ের কথামত কাজ করতে লাগলো। তপেশ সেখান থেকে উঠে নিজের ঘরে চলে যায়। বুঝতে পারে এ বাড়িতে এখন নলিনীই সব। তার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে। 
 গ্রামে দরিদ্র শ্রেণীর বাস বেশি। তাপসবাবু পুরো গ্রামবাসীদের নিমন্ত্রণ করে খাইয়েছেন এবং বস্ত্র বিতরণ করেছেন নলিনীর হাত দিয়েই। দূরে দাঁড়িয়ে থেকে তপেশ শুধু এগুলো দেখেছে। সে ঘরেই ছিল খেতেও যায়নি। দুপুর গড়িয়ে গেলেও সে যখন খেতে নামেনি নিজের ব্যাগ গুছাতে ব্যস্ত সেই সময় একজন পরিচালিকা এসে তার ঘরে খাবার রেখে খেয়ে যেতে বলে বেরিয়ে যায়। সে না খেয়েই ব্যাগ নিয়ে বেরোতে গিয়ে দেখে দরজার কাছে তার বাবা দাঁড়িয়ে। তিনি বলেন,
-- তুমি বংশের একমাত্র ছেলে। আমার মায়ের কাজে খালি মুখে বেরিয়ে গেলে মায়ের আত্মা শান্তি পাবে না। খেয়ে তবে যাও।
 কোন উত্তর না দিয়ে তপেশ ঘরে ঢুকে দুটি মুখে দিয়ে ব্যাগ নিয়ে বাবার ঘরে ঢুকে দেখে নলিনী বাবাকে ওষুধ খাওয়াচ্ছে। বয়সের কারণে এখন অনেক ওষুধই তাপসবাবুকে খেতে হয়। সেই একইভাবে নলিনীর ঘোমটা টানা। মুখ দেখার উপায় নেই। বাবাকে প্রণাম করতে গেলে তিনি বলেন,
-- আমার আশীর্বাদ তোমার মাথার উপর সব সময় আছে। আজকে মায়ের কাজের দিনে আর পা ছুঁয়ে প্রণাম কোরো না।
 -- আমি আসছি।
 তপেশ বেরিয়ে যায়। কেউ আর কোন কথা বলে না।গেটের বাইরে গিয়ে সামনে ফিরে গেট লাগাতে গিয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে দেখে ব্যালকনিতে নলিনী দাঁড়িয়ে। কিছুটা সময় সেও তাকিয়ে থাকে। কিন্তু পরিষ্কার করে কেউ কিছুই দেখতে পায় না। 
  বিয়ে একটা পবিত্র বন্ধন। আগেকার দিনে বিয়ের পরেই অপরিচিত দু'টি মানুষ একে অপরকে  ভালবাসতে শুরু করতো। এ বন্ধন কি এত সহজে এড়ানো যায়? কোথাও কি দু'জনের মনে ভালোবাসার কোন রেখা পড়েনি?
    সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। আনমনে হেঁটে চলেছে তপেশ। বড় রাস্তায় উঠে বাস ধরে তবে তাকে স্টেশনে যেতে হবে। দূর থেকে হঠাৎ একটি বিয়েবাড়ির গেটের কাছে জনারণ্য দেখে ওখানেই দাঁড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সামনের দিকে তাকিয়ে দেখে বেশ কিছুটা দূর থেকে একজন ছুটে আসছে আর একজন বাইক স্টার্ট দিয়ে পা নিচুতে আস্তে আস্তে বাইক নিয়ে এগোচ্ছে। যে ছুটে যাচ্ছে সে গিয়ে বাইকে বসতেই মুহূর্তেই বাইক উধাও হয়ে গেলো। কিছু একটা ঘটেছে বুঝতে পেরে তপেশ দ্রুত বিয়েবাড়ির গেটের কাছে এগিয়ে আসে।

ক্রমশ 


 

Monday, March 23, 2026

ভালোবাসার নীল আকাশ (অষ্টম পর্ব)

ভালোবার নীল আকাশ (অষ্টম পর্ব)
  প্রতিটা মুহুর্তে অনল অপেক্ষা করে আছে এই বুঝি বিনীতার ফোন আসবে। কিন্তু ভাবাই সার। অনলও চাইছে না বিজয়ের কাছ থেকে নম্বর নিয়ে সে বিনীতার সাথে যোগাযোগ করতে। কিন্তু অনলের মনের মধ্যে যে ভালোবাসার বীজ বপন হয়েছে তা আস্তে আস্তে অঙ্কুরোদগম হতে চাইছে। কিন্তু কোথায় যেন একটা বাধা এসে দাঁড়াচ্ছে সেটা সে নিজেও বুঝতে পারছে না। এই বাধা কাটিয়ে সে কিছুতেই নিজের ইগো ঝেড়ে বিনীতার সাথে যোগাযোগ করতেই পারছে না। বিনীতার দিক থেকে কোন সাড়া না পেলে অনল যে এই বাধা কোনদিনও কাটিয়ে উঠতে পারবে না এটা সে ভালোভাবেই বুঝে গেছে। 
 পরদিন যথারীতি অফিস পৌঁছে যায় অনল। কিছুক্ষণ আগেই কৌশিকী অফিস এসেছে। অনল তাকে দেখতে পেয়েই বলে,
-- হ্যাঁ বলো কাল কেন ফোন করেছিলে?
-- আরে বলবো ,বলবো। সবে তো ঢুকলে একটু বিশ্রাম নাও।
 অনল সেকথার কোন উত্তর দেয় না। নিজের চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসে ড্রয়ার খুলে একটা ডাসটার বের করে টেবিলটা মুছে হাত ধুতে উঠে যায়। অনল চলে যাওয়ার পর কৌশিকির পাশে বসা কলিগ তরুণ বলে,
-- হ্যাঁরে কৌশিকী, অনলকে আজ একটু অন্যরকম লাগছে না? ও তো খুব হাসিখুশি। আজ যেন একটু গম্ভীর লাগছে?
কৌশিকী হালকা হেসে বলল,
— লাগছেই তো। কাল ফোন করেছিলাম, ধরল না। আজকে এসে এমন ভাব করছে যেন কিছুই হয়নি।
কলিগটা একটু এগিয়ে এসে ফিসফিস করে বলল,
— কিছু হয়েছে নিশ্চয়ই। না হলে অনল এমন চুপচাপ থাকে নাকি! প্রেমে পড়েছে বোধকরি 
 কথাটা বলেই তরুণ হাসতে থাকে।
কৌশিকী কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল। যেন সে নিজেও বুঝতে পারছে, অনলের ভিতরে কিছু একটা বদলে গেছে। গতকাল রাতেই ফোন করে অনলের মধ্যে সেই উচ্ছ্বলতা না পেয়েই নিজের জীবনের সুখবরটা সে দিতে পারেনি। 
 প্রথম দিন থেকেই অনলের প্রতি অদ্ভুত একটা টান অনুভব করে কৌশিকী। সে টান যে ভালোবাসার সে কৌশিকী ভালোই বুঝতে পারছে। তাই অফিসের অন্য কাউকে খবর দেওয়ার আগে সে প্রথম ফোনটা অনলকেই করেছিল। কৌশিকিও এইসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে কিছুটা উদাস হয়ে যায়।জানলা দিয়ে তাকায়। আজকে আকাশটা একটু যেন বেশি নীল। তার জীবনে ভালোবাসার এই নীল আকাশ কোন সুখবর বয়ে আনবে কি কোনদিন? অনল কি বুঝতে পারবে আদতেও তার নীরব এই ভালোবাসার কথা।
 কৌশিককে চুপ করে যেতে দেখে তরুণ বলে ওঠে,
-- আরে তুমি কোথায় হারিয়ে গেলে? তোমার মাথার মধ্যে অন্য কিছু ঘুরছে আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু সেটা কী সেটা বুঝতে পারছি না। তুমিও কি প্রেমে পড়লে নাকি?
 তরুণ বেশ জোরেই হেসে ওঠে। মুহূর্তেই এদিক ওদিক তাকিয়ে চুপ করে যায়। কারণ তার এই হাসির আওয়াজে অনেকেই তার দিকে তাকিয়ে পড়ে।
   কৌশিকী উত্তর দেওয়ার আগেই অনল হাত ধুয়ে ফিরে এসে নিজের চেয়ারে বসে ফাইল খুলে কাজ করতে লাগল। কিন্তু কাজের প্রতি তার মনোযোগ নেই বললেই চলে। চোখ ফাইলে থাকলেও মনটা যেন কোথাও দূরে— সেই দূরটা বিনীতার কাছে কিনা অনল নিজেও হয়ত তা জানে না। হঠাৎ করে জীবনের উপর থেকে যে মস্তবড় একটা ঝড় বয়ে গেছে সেই ঝড়ের তান্ডব এখনো অনলের বুকের ভিতর চলছে। একটা বিশাল ক্ষত অনলের জীবনের উপর তৈরি করে দিয়ে গেছে যে ঝড় সে ক্ষত কতদিন, কীভাবে বয়ে বেড়াতে হবে অনলকে তা সে সত্যিই জানে না। হয়ত সময়ের সাথে সব ঠিক হয়ে যায় ঠিকই কিন্তু সেটা কত দিন,কত মাস কিংবা কত বছর? 
 হঠাৎ করে অনলের এই পরিবর্তনটা কৌশিকীর নজর এড়ালো না। সে কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে 
 বলল,
— এই অনল, কাল তোমায়  একটা দরকারেই ফোন করেছিলাম। উহু ঠিক দরকার নয় ; আসলে একটা খবর দিতেই ফোনটা করেছিলাম।
অনল ফাইল থেকে মুখ না তুলেই বলল
-- হ্যাঁ বলো, কী খবর দিতে ফোন করেছিলে? আমি তো এসেই জানতে চাইলাম।
-- তুমি কী কোন কারণে আজ ডিস্টার্বড?
 অনল এবার ফাইল থেকে মুখ তুলে কৌশিকীর দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলে,
-- না,না বলো।ঠিক আছি।
-- আমি অন্য একটা চাকরিতে জয়েন করছি।
-- মানে?
-- তুমি তো জানো আমার মা,বাবা শিলিগুড়িতে থাকেন। এখানে একটা বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকি। প্রথম থেকেই চেষ্টা ছিল স্কুল কিংবা কলেজে পড়াবো। প্রচুর পরীক্ষা দিয়েছি তারজন্য। অবশেষে শিলিগুড়ির একটা স্কুলে সুযোগ পেয়ে গেলাম।
 কৌশিকী এতগুলো কথা বলল ঠিকই কিন্তু অনলের কান অব্দি সব কথা পৌঁছালো না। সে ওই শিলিগুড়িতেই আটকে রইলো। সে শুধু জানে বিনীতা শিলিগুড়িতে থাকে কিন্তু কোথায় থাকে সেটা তো জানে না।
-- অনল তুমি কি আমার কথাগুলো শুনলে? কোন উত্তর দিলে না তো?
-- খুব ভালো খবর শোনালে। তা কবে যাচ্ছ শিলিগুড়ি? যাক আমাদেরও একটা ঘোরার জায়গা হল। কোথায় চাকরি পেলে? স্কুল নাকি কলেজ?
   কৌশিকী বুঝতে পারে তারমানে অনল মন দিয়ে তার কথাগুলো শোনেনি।অনলের এভাবে নির্লিপ্ত কথাবার্তা কৌশিকীর ভালো লাগলো না। তবুও কথার উত্তর দিতে হয়।সে অনলকে জানালো একটা স্কুলে সে চাকরিটা পেয়েছে। আর "কবে যাচ্ছ?" এই উত্তরটা ঠিক এভাবেই দিলো,
-- যত তাড়াতাড়ি যাওয়া যায় তত তাড়াতাড়িই যাবো। কারণ এখানে কিছুই আমার নেই। না আছে বিশেষ কোন জিনিসপত্র না আছে ভালোবাসার কোন মানুষ যে আমি চলে গেলে সেই মানুষটি কষ্ট পাবে। এই ধরো কাল কিংবা পরশু।
 অনল তার কথার হালকাভাবে ধরে নিয়ে উত্তর দিলো,
-- সেটা ঠিক কথা। তোমার সবাই তো শিলিগুড়িতে। খুব ভালো হল জানো। তবে আমাদের একদম ভুলে যেও না। 
-- হু তোমার মানে তোমাদের কি আমার কথা মনে পড়বে?
-- মনে তো পড়বেই। তবে কি জানো -- ব্যস্ত জীবনে মানুষ হচ্ছে সময়ের দাস। আজ যা ভীষণভাবে মনে পড়ছে, ধরো কারো জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে কাল যখন অন্য কিছু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে তখন আজকের কথাগুলো মনে করার সময়ই পাবে না। তবে এমন কিছু কিছু ঘটনা আছে যা শত চেষ্টা করেও ভুলে যাওয়া যায় না।
-- কী ধরণের ঘটনা সেগুলো?
-- এসব ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না কৌশিকী। হঠাৎ করে জীবনে এমন কিছু কিছু ঘটনা ঘটে যায় যার জন্য তুমি মোটেই প্রস্তুত ছিলে না। অথচ ঘটনাটি তোমার জীবনে ঘটলো। ইচ্ছা কিংবা আনিছাতে তুমি এমনভাবে কোন ঘটনার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেলে যা তোমার স্বপ্নেরও অতীত ছিল। তখন তোমার জীবনটা হয়ে যাবে ঠিক যেন শাখেরকরাত। 
 বুদ্ধিমতী কৌশিকী বুঝতে পারে অনলের জীবনে এমন কিছু ঘটেছে যা সে না পারছে কাউকে বলতে কিংবা না পারছে সেই সমস্যার সমাধান করতে। কিন্তু কী সেই গোপন সত্য অনলের জীবনে? কৌশিকী কি কোনদিনও সেই সত্যের সামনাসামনি হতে পারবে? অনলের জীবনের সেই সত্য রহস্যের উদঘাটন কৌশিকী কীকরে করবে? যদি না অনল নিজের থেকে কৌশিকীকে সবকিছু জানায়?
 কৌশিকী অনলের মনের অবস্থা বুঝতে পেরে তাকে বলে,
-- আমি বুঝতে পারছি তোমার জীবনে এমন কিছু ঘটেছে যা তুমি ভাবতে পারোনি।কিন্তু সেটা ঘটেছে। যদি তোমার মনেহয় আমায় সবকিছু খুলে বলতে পারো। একজন বন্ধু হিসাবে কিছু সাহায্য তো করতেই পারি। নিদেনপক্ষে কোন সমাধানের পথও তো বাতলে দিতে পারি?
-- আরে না,না। আমি তো কথার কথা বলেছি। এই তো বিয়েবাড়ি গেলাম আনন্দ,ফুর্তি করলাম; গতকাল ফিরেছি। আজ সোজা অফিস।
 নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে বললো,
-- তোমার চাকরির খবরটা শুনে ভীষন আনন্দ পেলাম। এই, তোমার বাড়ির অ্যাড্রেস্টা দিয়ে যেও।
-- কেন? যাবে নাকি আমার বাড়িতে?
-- হু যেতে পারি তো। একদিন ঘুম থেকে সকালে উঠে দেখলে আমি হাজির।
-- তাহলে নিজেকে ধন্য মনে করবো।
-- না,না ওসব ধন্য, তন্য নয়। পেট পুরে খাওয়াবে। 
 কথা বলতে বলতেই কৌশিকীর পাশের কলিগকে বলে,
-- তরুণ শুনেছ? আমাদের কৌশিকী এখন স্কুলের ম্যাডাম হয়েছেন। 
-- তা কৌশিকী মাইনে তো স্কুলে অনেক কম এখান থেকে।
 -- কী আর করা যাবে বলো? মা,বাবার একমাত্র সন্তান। তাদের আদেশ। মেয়ে বাড়ি থেকেই অফিস কিংবা স্কুলে যাতায়াত করবে। 
 অনল হঠাৎ বলে উঠলো,
-- অনেক গল্প হল। এবার অফিসের কাজে মন দিই।
কৌশিকী হাসতে হাসতে বলে ওঠে,
-- আমার কিন্তু মনে হচ্ছে অফিসের কাজে মন দিলেও মনটা বড়শিতে গাঁথতে পারবে না। আমি শিওর মনটা তোমার অন্য কোথাও গেঁথে আছে।
 অনলের বুকটা ধক করে উঠলো। তবুও নিজেকে সংবরণ করে হেসে উঠে বলল,
-- কী যে উল্টোপাল্টা তুমি বলো -।

ক্রমশ



    

Thursday, March 19, 2026

ভালোবাসার নীল আকাশ (৭ম পর্ব)

ভালোবাসার নীল আকাশ (৭ম পর্ব)

  অর্পণের বিয়ের দিন সকাল -

 বাড়িতে পাড়াপ্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ভর্তি। সকলেই খোশমেজাজে। সকাল থেকেই আচারঅনুষ্ঠান একটার পর একটা চলেছে। অর্পিতার বন্ধু হিসাবে ময়ূরও উপস্থিত বিয়ে বাড়িতে। অর্পণ ময়ূরকে একা পেয়ে বলল,
-- তুমি একদম ভেবো না ময়ূর। বিয়েটা মিটতে দাও তারপর তোমার কেসটা আমি দেখছি। মনে সাহস রেখো। তবে একটা কথা তোমায় বলবো , আমি অর্পির কাছে শুনেছি তুমি খুবই সাহসী মেয়ে সেটা তোমার আচারআচরণে আমিও বুঝতে পারছি। কিন্তু তা সত্ত্বেও বলবো রাস্তাঘাটে বেশি বেরোবে না। একা হোক কিংবা কারও সাথে। সমা*জবিরো*ধীদের কোন অবস্থাতেই বিশ্বাস করা যায় না। ওরা পারে না এমন কোন কাজ নেই।
 অর্পণের কথা শুনে ময়ূর সম্মতিসূচক মাথা নাড়ে। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হয়। অর্পণের ফোন বারবার বাজতে থাকে। ফোনটা ওর বোন অর্পিতার কাছে। একটা নম্বর থেকেই বারবার ফোন আসতে থাকায় অর্পিতা ফোনটা দাদার হাতে দিতে যায়,
-- দেখ টো দাদা বারবার একই নম্বর থেকে ফোন আসছে।
 অর্পণ বুঝতে পারে কেন এই ফোনটা বারবার আসছে এবং কী তার উদ্দেশ্য?
সে ফোনটা না নিয়েই বলে,
-- বাজতে থাকুক। ঘরে গিয়ে রিংব্যক করে নেবো। 
 সন্ধ্যার আগেই বরের রওনা দেওয়ার কথা। তারই তোড়জোড় চলছে। একদল হলুদ নিয়ে দুপুরেই চলে গেছে মেয়ের বাড়ি। বেরোনোর জন্য অর্পণ রেডি। আবার ফোনটা বেজে ওঠে। ফোনটা ধরে '' হ্যালো " বলতেই অপর প্রান্ত থেকে বেশ কড়া ভাষায় ভেসে এলো,
-- শেষবারের মত বলছি এই কেস তুমি নিও না। নতুন জীবন শুরু করতে চলেছ সবকিছুর আগেই প্রাণটাকে খোয়ানোর জন্য কেন উঠেপড়ে লেগেছ?
-- আপনি যতই আমায় থ্রে*ট করেন না কেন আমি কোনকিছুতেই ভয় পাই না। আমি এ রাস্তা থেকে সরবো না।
-- ভেবে দেখো। তোমার বাড়িতে আমার লোক পৌঁছে গেছে। তুমি রাজি হলে তাদের ফিরে আসতে বলবো আর রাজি যদি না হও আর কয়েকটা মুহূর্তের জীবন তোমার। 
 ফোনটা কেটে দিয়ে পাঞ্জাবীর পকেটে রেখে দেয়। ফোন পুণরায় বেজে ওঠে। কিন্তু অর্পণ আর রিসিভ করে না। বেশ কয়েকবার ফোনটা বাজতে থাকলে অর্পণ ফোনের সুইচ অফ করে দেয়।
 মাকে প্রণাম করে, রিচুয়াল মেনে মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠতে যাবে আর ঠিক তখনই খুব কাছ থেকে গুলি এসে অর্পণের বুকে লাগে। সবাই এতটাই হকচকিয়ে যায় যে অপরাধী মুহূর্তেই সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়।
 সঙ্গে সঙ্গে বরের সাজানো গাড়িতে করেই অর্পণকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনা কিসের জন্য কেন ঘটলো কেউ না বুঝলেও ময়ূর ঠিক বুঝতে পারে এটা কিসের জের। 
 তখন বিনিতাদের বাড়ি থেকে তার মামা আর একজন প্রতিবেশী বর নিতে সেখানে হাজির। ঘটনার আকস্মিকতায় তারা পুরো পাথর হয়ে যান। কী করবেন কিছুই বুঝতে পারেন না। মুহূর্তেই একটা আনন্দউচ্ছ্বল বিয়েবাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাড়ি পুরো ফাঁকা হয়ে যায়। সবাই চলে গেলেও খুব কাছের কয়েকজন ছাড়া ময়ূর থেকে যায় সেখানে। সে বন্ধুকে সান্ত্বনা দেবে কী নিজেই পাথর হয়ে আছে ঘটনার আকস্মিকতায়। তার জন্যই আজ অর্পিতার দাদার এই অবস্থা! মনেমনে নিজেকে নিজেই দোষীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয়। কিন্তু মুখ ফুটে কাউকেই কিছু বলতে সাহস পায় না। এ ঘটনার কারণ কিছুটা হলেও অর্পিতা যে টের পেয়েছে তা ময়ূরও বুঝতে পেরেছে। কিন্তু সেও স্থবির!
   হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ কেস বলে নিতে প্রথমে অস্বীকার করলেও অনেক টালবাহানার পর শেষমেষ ভর্তি করতে তারা পারে। সঙ্গে সঙ্গেই অপারেশন থিয়েটারে। বিনীতার বাড়ির লোক যে গাড়িটা করে বর নিতে এসেছিল সেটা করেই অর্পনকে হাসপাতাল আনা হয়েছে। সেই গাড়িতে অর্পণের খুব কাছের বেশ কয়েকজন উঠে পড়ায় তারা অন্য একটা গাড়ি করে হাসপাতাল পৌঁছান। হাসপাতাল যাওয়ার আগে বিজয়কে ফোন করে অর্পণের খবরটা দিয়ে যান তার ছোটমামা।
 অর্পণের বাড়িতে শোকের ছায়া। ময়ূর বাড়িতে ফোন করে সমস্ত ঘটনা জানিয়ে দিয়েছে আর এও বলেছে আজ রাতে সে বাড়িতে ফিরছে না।অর্পণের মা বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন। প্রতিবারই ময়ূরের তত্ত্বাবধানে তার জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বৃদ্ধ বাবা হতবাক হয়ে শুয়ে। তাঁর মুখেও কোন কথা নেই। 
  অর্পিতা বারবার হাসপাতালে উপস্থিত পরিচিতদের ফোন করছে কিন্তু কেউই তার ফোন তুলছে না। অর্পণের খবরের উদ্বিগ্নতায় তার বোন,মা,বাবার পাগল পাগল পরিস্থিতি। কিন্তু হাত,পা বাঁধা। কী করবেন এখন কী করা উচিত কিছুই কেউ বুঝতে পারছে না।
 বিয়ে বাড়িতে বর নেওয়ার জন্য যে দু'জন এসেছিলেন তারাও সারাটা রাত নিদ্রাহীন অবস্থায় হাসপাতালে বসে। তাদের দু'জনের অবস্থা হয়েছে চক্রবুহে প্রবেশ। না পারছেন চলে যেতে না পারছেন থেকে যেতে। 
   অর্পণের বুকে গু*লি লাগাতে সঙ্গে সঙ্গেই অর্পণ জ্ঞান হারিয়ে বিনীতার ছোট মামার গায়ের উপর পড়ে যায়। কারণ তিনি অর্পণের খুব কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। গোটা একটা দিন ওই রক্তমাখা জামা পরেই বিনীতার ছোটমামা কাটিয়ে দেন।যেহেতু অর্পণের বুকে গুলি লাগার সাথে সাথেই সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে তাই সেখানে উপস্থিত অনেকেই ভাবেন অর্পণ  বুঝি মারা গেছে। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর পর অপারেশন থিয়েটারে তার বুক থেকে গুলি বের করার পর ডাক্তার বাহাত্তর ঘণ্টা সময় চান তার জ্ঞান ফেরার। ভোররাতে ফোন করে অর্পিতাকে কথাটা জানানোর পর তারা যেন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।
 সেই মুহূর্তে বিজয়ের ছোটমামা তখন বিজয়কে আর ফোন করতে সাহস পান না। এখন সেখানে কী পরিস্থিতি সেটা ভাবতেই তাঁর বুকের ভিতর কেঁপে ওঠে। তিনি ভোররাতে এই খবর পাওয়ার পর তার সঙ্গীকে সাথে নিয়ে বিজয়দের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু কিছুটা পথ আসার পর তাদের গাড়ি এমনভাবে বিকল হয়ে পড়ে এতো সকালে কোন গ্যারেজ খোলা না পেয়ে তাদের অনেকটা সময় রাস্তাতেই কেটে যায়। এদিকে রক্তমাখা জামা পরে রাস্তায় এত ভোরে কোন পথচারীর চোখে পড়লেই তারা উৎসুক দৃষ্টিতে তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকছেন। অনেকে আবার এসে প্রশ্নও করছেন। এমতাবস্থায় তিনি ওই বিকল গাড়ির মধ্যে বসেই বেশ কয়েক ঘণ্টা কাটিতে দেন।
   যখন বিজয়দের বাড়িতে ফেরেন প্রায় দুপুর। তিনি ফিরে দেখেন তার আদরের ভাগ্নির অন্য একটি ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে গেছে। তিনি অর্পণের বাড়ির সমস্ত ঘটনা সেই মুহূর্তে কারো কাছে বলেন না। শুধু বিজয়কে বলেন,
-- সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে গেলো। অনেক কথা আছে। এই মুহূর্তে আর কিছু বলছি না। সব পরে বলবো। কিন্তু যে ছেলেটির সাথে তুই বোনের বিয়েটা দিলি তার সম্পর্কে কি কিছু জানিস?
-- মামা, আমারও অনেককিছু বলার আছে। সব বলবো আর শুনবো তোমার কাছ থেকে। কিন্তু পরে।
 দম বন্ধ করে অর্পণের বাড়ির লোক হাসপাতালে পালাক্রমে অপেক্ষমাণ। কখন অর্পণের জ্ঞান ফেরে। অর্পিতার সাথে প্রতিবারই ময়ূর আসছে হাসপাতালে। সে ভীষণভাবে একটা অপরাধ বোধে ভুগছে। নিজেকে নিজেই দোষারোপ করছে আজ তার জেদের ফলেই অর্পিতার দাদার এই পরিস্থিতি। নিজেকে কিছুতেই সে ক্ষমা করতে পারছে না। মা,বাবার কথা শুনে সে যদি এই কেসটা থেকে সরে দাঁড়াতো তাহলে বৃদ্ধ মা,বাবা আর অবিবাহিত বোনের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটির এই দশা হত না। আজ অর্পণদার এই পরিস্থিতির জন্য একমাত্র সেই দায়ী। নিজের জেদের জন্য একটা মানুষের জীবন চলে যাচ্ছিল এটা সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। বন্ধু অর্পিতা বিষয়টা টের পেলেও সেও কিন্তু এটা নিয়ে তাকে কোন কথাই বলেনি। কিন্তু ভিতরে ভিতরে যে গুমরে মরছে এটা ময়ূর ঠিক বুঝতে পারছে। ময়ূর ঈশ্বরের কাছে সবসময় প্রার্থনা করে চলেছে অর্পণের জন্য। তার এখন ভাবনা একটাই যদি অর্পণদার কিছু হয়ে যায় তাহলে সারাটা জীবন এই অপরাধের দায়ভার কিভাবে সে বয়ে বেড়াবে? 

  কিভাবে কেমন করে সে এর প্রায়শ্চিত্ত করবে?
১৯-৩-২৬ 
  
    

Sunday, March 8, 2026

ভালোবাসার নীল আকাশ ( ষষ্ঠ পর্ব)

ভালোবাসার নীল আকাশ (ষষ্ঠ পর্ব)

  গাড়ি স্টেশন ছেড়ে বেরিয়ে গেল। গাড়িটা প্লাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরও অনল সেদিকে তাকিয়ে থাকলো। অথচ এটা কিন্তু অনলের ক্ষেত্রে হওয়া উচিত হয়নি। কারণ কালকেই মাত্র বিনীতার সাথে তার পরিচয়। আর বিয়ে নামক একটা প্রহসনের মধ্যে পড়ে যেন কোথা থেকে সব কি হয়ে গেল। এই এক রাতেই দু'টো অপরিচিত ছেলে মেয়ের জীবনে কত কিছু ঘটে গেল। কিন্তু কেউই এর জন্য বিন্দুমাত্র প্রস্তুত ছিল না। ছিল না কোনো পরিচয়, ছিল না কোন জানাশোনা অথচ বিয়ের সামান্য কটা মন্ত্র দু'টো মানুষকে যেন অনেকটা কাছে এনে দিয়েছে। কেউই এই বিয়েটাকে তেমন প্রাধান্য না দিলেও কেউই কিন্তু মন থেকে বিষয়টাকে তাড়াতেও পারছে না।
   অনলের ফোন নম্বারটা বিনীতাকে দেওয়ার পর সে ভেবেছিল বিনীতা নিশ্চয়ই একটা কল করে তার নম্বরটা অনলকে দেবে। সে বারবার ফোনটাকে পকেট থেকে বের করে কোন মিসড কল এসেছে নাকি দেখতে থাকে। সে বাসে বসে নানান কথা ভাবতে থাকে। কী এমন আছে বিয়ের ওই মন্ত্রতে। এই মন্ত্রগুলো উচ্চারণ করার সাথে সাথে কোন জাদুবলে বিনীতার প্রতি অদ্ভুত এক টান অনুভব করছে। মানুষ বলে, জীবনে যা ঘটে তার সবটাই নাকি ভবিতব্য অর্থাৎ ঈশ্বর আগে থাকতেই সবকিছু নাকি ঠিক করে রাখেন। সত্যিই কি এটা তার জীবনে ঘটবে বলেই আজ এতদিন বাদে তার বিজয়ের সাথে দেখা হল?বন্ধুর বোনের বিয়েতে বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে বিয়ে করে ফিরবে এটা যে তার স্বপ্নেরও অতীত ছিল। বিয়ে নিয়ে সব মানুষেরই কিছু স্বপ্ন থাকে অনলও তার ব্যতিক্রম ছিল না। কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব হল? এই বিয়ের সম্পর্কে সে তার বাবা-মা বোনকে কবে জানাতে পারবে কিভাবে জানাতে পারবে সেটা ভাবতে ভাবতেই সে তার নির্দিষ্ট স্টপেজে এসে যায়। 
  বাবা মা উভয়েরই বয়স হয়েছে। বোনটার এখনো লেখাপড়া শেষ হয়নি। এরপর হায়ার স্টাডি, তারপর বিয়েথার একটা ব্যাপার আছে। কিন্তু এর মধ্যে তার নিজের জীবনে উপর দিয়ে যে ঝড়টা বয়ে গেল তার সাথে যে আরেকটি মেয়ে জড়িত। অর্থাৎ বাবা, মা, বোন ছাড়াও তার ভাবনার আকাশে আরও একজন যুক্ত হল।সেই মেয়েটার জীবনটাকে নিয়েও তাকে এখন ভাবতে হবে। চাকরিটা পাওয়ার পর প্রচুর ভাবনার উপর কিছুটা প্রলেপ পড়েছিল। কিন্তু এখন যেন সেই ভাবনা পুণরায় দ্বিগুণ পরিমাণ বেড়ে গেলো।

  বাসটা ধীরে ধীরে স্টপেজে ঢুকতেই অনল যেন হুঁশে ফিরল। কন্ডাক্টরের ডাকে চমকে উঠে নেমে পড়ল। চারপাশের চেনা রাস্তাঘাট, দোকানপাট—সবই আগের মতোই আছে, অথচ তার ভেতরের পৃথিবীটা যেন এক রাতেই বদলে গেছে।
বাড়ির দরজায় কড়া নাড়তেই মা দরজা খুলে দিলেন।
— “এত দেরি হল রে? বিজয়ের বাড়ির অনুষ্ঠানটা খুব জমেছিল বুঝি?”
অনল এক মুহূর্ত মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। মনে হল, এখনই সব বলে দেয়। কিন্তু পরক্ষণেই গলা শুকিয়ে গেল।
— “হ্যাঁ মা, একটু কাজকর্ম ছিল… তাই দেরি।”
মা আর কিছু জিজ্ঞেস করলেন না। কিন্তু অনলের চোখ এড়াল না, বাবার চশমার ফাঁক দিয়ে কৌতূহলী দৃষ্টি। সে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করল। পকেট থেকে ফোনটা বের করল আবার। এখনও কোনো মিসড কল নেই।
হালকা একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল তার বুক থেকে।
তাহলে কি বিনীতা সত্যিই এই বিয়েটাকে কেবল একটা বিপদ থেকে বাঁচার উপায় হিসেবেই দেখেছে? তার মতোই কি সেও দ্বিধায় আছে?
ঠিক তখনই ফোনটা কেঁপে উঠল।
অজানা নম্বর।
অনলের বুকের ভেতর ধক করে উঠল। কয়েক সেকেন্ড থেমে থেকে রিসিভ করল।
— “হ্যালো…”
ওপাশে সামান্য নীরবতা। তারপর খুব চেনা, মৃদু কণ্ঠস্বর—
-- আমি কৌশিকী বলছি। চিনতে পারছেন?
 অনল ভেবেছিল ফোনটা বিনীতা করেছে। মনটা তার খুব খারাপ হয়ে গেলো। কিন্তু এরূপ হওয়ার তো কোন কারণ নেই। কেন বারবার বিনীতার কথা তার মনে পড়ছে? সেতো দু'দিন আগে বিনীতাকে চিনতোই না। মানুষ বলে প্রেম প্রথম দেখাতেই হতে পারে। তবে কি সে বিনীতাকে ভালোবেসে ফেলেছে। 
 ওপাশ থেকে পুণরায় ভেসে আসে 
-- হ্যালো চিনতে পারছেন না?
 অনলের সম্বিৎ ফেরে। সে বলে,
-- হ্যাঁ চিনবো না কেন? আসলে একটু অন্যমনস্ক ছিলাম। আর খুব টায়ার্ড তো।
-- ও আপনি বন্ধুর বোনের বিয়েতে গেছিলেন তো। ঠিক আছে আমি তবে অন্য সময় ফোন করবো।
-- না না অসুবিধা নেই। আপনি বলুন কেন ফোন করেছেন?
-- না, থাক কাল তো নিশ্চয় অফিস আসছেন। তখন তো দেখা হচ্ছে তখনই বলবো। আপনি রেষ্ট নিন।
 কৌশিকী ফোনটা কেটে দিলো। অনলের মাথায় ঢুকলো না কেন কৌশিকী তাকে ফোন করলো আর কেনই বা কোনকিছু না বলেই ফোনটা কেটে দিলো। 

  অফিসে অনলের পাশের চেয়ারেই বসে কৌশিকী। ডানাকাটা পরি না হলেও তাকে দেখতে সুন্দর। তবে একটা কথা স্বীকার করতেই হবে মেয়েটি খুবই স্মার্ট। প্রথম দিন থেকেই অনলের সাথে তার ভালো বন্ধুত্ব হয়ে
 গেছে।
 ফোনটা টেবিলের উপর রেখে অনল স্নান করতে বাথরুমে ঢুকলো। সকালে বেরোনোর আগে একবার স্নান করেছে। কিন্তু ওর এই এক স্বভাব। বাড়িতে থাকলে একবার স্নান করলে যদিবা চলে ; বাইরে বেরোলে বেরোনোর আগে একবার আর বাড়িতে ফিরে একবার স্নান করতেই হবে। তানাহলে ওর নাকি গা ঘিনঘিন করে, রাতে ঘুম হয় না। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পড়লেও এই নিয়মের কোন ব্যতিক্রম নেই। স্নান করে ঘরে ঢুকে দেখে বোন আনন্দী চা নিয়ে এসে বসে আছে।
 আনন্দি চা'টা দাদার হাতে দিয়ে বলল,
-- বিয়ে বাড়িতে কী হল একটু বল না দাদা? 
-- সে এক ইতিহাস রে! বলবো একসময় সময় করে। এখন খুব টায়ার্ড লাগছে। 
-- ঠিক আছে তাহলে তুই বিশ্রাম নে পরে শুনবো সব গল্প।
 আনন্দি ভিতরে চলে যায়। অনল চা শেষ করে আবার ফোনটা নিয়ে বসে। মনেমনে ভাবে কী অদ্ভুত মেয়েটা! ফোনটা কিছুতেই করলো না। ইচ্ছা করলে সে বিজয়ের কাছ থেকে নম্বরটা নিতেই পারে কিন্তু বিনীতা যখন তাকে এড়িয়ে যেতে চাইছে এই মুহুর্তে তাকে বিরক্ত করা ঠিক হবে না। কিন্তু কিছুতেই অনল মন থেকে বিনীতার কথা ভুলতে পারছে না। কী এমন আছে বিয়ের ওই মন্ত্রগুলোতে? যা উচ্চারণ করলে অচেনা,অপরিচিত মানুষটি হৃদয়ের এত কাছে চলে আসে? 
 দুপুরে খেতে সকলের একটু দেরিই হল। অনলকে চুপচাপ বসে খেতে দেখে আনন্দি বলল,
-- দাদা বিয়ে বাড়ি থেকে আসার পর দেখছি তুই একটু চুপচাপ হয়ে গেছিস? কী হয়েছে? সব ঠিক আছে তো?
 সকলে উৎসুক হয়ে অনলের দিকে তাকায়। অনল হেসে পড়ে বলে,
-- আরে না না সব ঠিক আছে। দু'দিন ধরে ঘুমটা ঠিক হয়নি তো তাই কেমন যেন একটু লাগছে। একটা লম্বা ঘুম না দেওয়া পর্যন্ত শরীরটা ঠিক হবে বলে মনে হচ্ছে না।
 অনলের মা তখন বলে উঠলেন,
-- তুই খেয়ে গিয়ে তাহলে একটু ঘুমিয়ে নে। কাল থেকে তো আবার অফিস।
  অনল খেয়ে ঘরে এসে আবার ফোনটা খুলে দেখে। না কোন কল নেই। বিছানায় শরীর এলিয়ে দেওয়ার সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পড়ে। সত্যিই আগের রাতে না ঘুমানোর ফলে তার শরীর দিচ্ছিল না। একঘুমে পুরো সন্ধ্যা সাতটা বেজে যায়। ঘুম থেকে উঠে সে জানলার পাশে এসে দাঁড়াল। আকাশে অসংখ্য তারা। মনে হল, সেই বিশাল নীল আকাশের নিচে কোথাও বিনীতাও হয়তো একইভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।
হয়তো এটাই ভবিতব্য।
হয়তো এটাই নতুন শুরুর প্রথম ধাপ।
কিন্তু আগামীকাল?
বাবা-মাকে কীভাবে বলবে সে?
বিনীতা কি তার পাশে থাকবে আজীবন ? নাকি সে অন্য কিছু ভাবছে? মা, বাবাকে সবকিছু জানানোর পর বিনীতা যদি তার চিন্তাধারার পরিবর্তন আনে? তখন?
অনলের জীবনের আকাশে নীলের সঙ্গে সঙ্গে ধূসর মেঘও জমতে শুরু করেছে।
আর সেই মেঘ সরিয়ে সূর্যের আলো আনতে পারবে কি তার ভালোবাসা—সেটাই এখন দেখার।

চলবে…

Tuesday, March 3, 2026

ভাগ্য বিধাতা

 ভাগ্য বিধাতা 
অনেকদিন পর এক পরিচিত কণ্ঠস্বরে বিদিশা কিছুটা হকচকিয়ে যায়। আজ বহুযুগ হয়ে গেল কোন পূর্ব পরিচিত কণ্ঠস্বর তার কানে এসে পৌঁছায়নি। কয়েকদিন আগেই বিদিশার চোখে ছানি অপারেশন হয়েছে।যদিও সে ঘরেই রয়েছে তবুও তার চোখে রয়েছে রোদ চশমা। ঘরের দরজা জানালা খোলা থাকলেও রয়েছে মোটা পর্দা ঝোলানো। কারণ ডাক্তার বলে দিয়েছেন রোদে যাওয়া যাবে না। অন্তত দশটা দিন ঘরেই বন্দি হয়ে থাকতে হবে। আর এই আশ্রমের অসুস্থ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের এতটাই যত্নে রাখা হয় যে ডাক্তারের কথা অমান্য করার সাধ্য কারও নেই।
  বিদিশা খাটের উপর থেকে নেমে আস্তে আস্তে দরজার কাছে এসে দাঁড়ায়। সানগ্লাসের ভিতর থেকে খুব ভালো দেখা না গেলেও বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে যাওয়া সাদা চুলের মানুষটাকে দূরে পিছন দিক থেকে হলেও দেখতে পেয়ে বিদিশার চিনতে বিন্দুমাত্র ভুল হয়নি।
   বিদিশা হঠাৎ করেই ফিরে যায় বেশ কয়েক যুগ আগে।মা,বাবা পছন্দ করে বড়লোকের একমাত্র ছেলে উজানের  সাথে তার বিয়ে দিয়েছিলেন। বিদিশার বিয়ের পর পাড়ার লোকে বিদিশার ভাগ্য যে খুব ভালো তা নিয়ে বহুদিন আলোচনা করেছে। জামাই তো নয় যেন কার্তিক ঠাকুর। যেমন সুন্দর দেখতে উজানকে ঠিক তেমনি ছিল তার সুমিষ্ট ব্যবহার। কিন্তু বিয়ের কয়েক দিন পরেই বিদেশা বুঝতে পারে উজানের এই ব্যবহার শুধুমাত্র বাইরের মানুষের সামনে। তার চেহারা বাইরেটা যতটা সুন্দর ভেতরটা ঠিক ততটাই অন্ধকারাচ্ছন্ন। কোন মানুষকেই সে মানুষ বলে মনে করে না। 
  পরপর দু'বার মাতৃত্বের সাধ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বিদিশা। যখনই বিদিশা প্রেগন্যান্ট হয়েছে টাকার জোরে আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে যখনি দেখতে পেয়েছে কন্যার সন্তান আসতে চলেছে উজান নার্সিংহোমে প্রচুর টাকার বিনিময়ে বিদিশার অ্যা*বারসন করিয়ে নিয়েছে। তৃতীয়বার যখন বিদিশা পুণরায় প্রেগন্যান্ট হয় তখন তাকে নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার জন্য উজানের যে চিৎকার চেঁচামেচি তাতে বিদিশা রাজি হয় না। এর ফলে বিদিশার সাথে উজানের চরম ঝামেলা শুরু হয় এবং সেই ঝামেলায় এমনভাবে উজান ধাক্কা মারে বিদিশা গিয়ে চেয়ারের কোণায় ধাক্কা খেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। উজান তাকে নিয়ে নার্সিংহোম যায়। কিন্তু সেখান থেকে ফিরে আসার পর বিদিশা উজানের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। একটা যন্ত্র চালিত পুতুলের মত সারাটাদিন কাজ করা আর রাতে উজানের শয্যাসঙ্গী হওয়া ছাড়া বিদিশা নিজেকে অন্য সবকিছু থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়। আস্তে আস্তে সংসারের কাজকর্ম করাও বন্ধ করে দেয়। সবকিছুই চলতে থাকে কাজের লোকের উপর নির্ভর করে।
 এই ঘটনার এক বছরের মধ্যেও যখন বিদিশা পুণরায় প্রেগন্যান্ট হতে পারে না তখন জোর করে উজান তাকে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যায়। 
 ডাক্তার উজানকে জানিয়ে দেন বিদিশা আর কখনোই মা হতে পারবে না কারণ বারবার বাচ্চা নষ্ট করার ফল এটা। 
 বিদিশার মা,বাবা অনেক আগেই তাকে তাদের কাছে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সে যায়নি। এবার উজান জোর করে বিদিশাকে তার বাপের বাড়িতে দিয়ে আসে। আস্তে আস্তে বিদিশা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। তার মা-বাবা চেষ্টা করতে থাকেন বিদিশাকে সুস্থ করতে। বেশ কয়েক বছর পরে বিদিশা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে। সে উজানের কাছে ফিরে আসার চেষ্টা করে।  উজানের পাড়ায় খবর নিয়ে জানতে পারে উজান বিয়ে করেছে তার একটি পুত্র সন্তান হয়েছে এবং স্বামী-স্ত্রী সেই সন্তানকে খুব সুখেই আছে।
   দিন গড়িয়ে যেতে থাকে। দু'বছরের ব্যবধানে বিদিশার বাবা-মা দু'জনেই মারা যান। বিদিশা একা হয়ে পড়ে। বিদিশা যেহেতু তার বাবা মার একমাত্র সন্তান তাই স্বাভাবিক নিয়মেই তাদের বাড়িঘর, বিষয়সম্পত্তি, টাকা পয়সা সবকিছুর বিদিশা পায়। কিন্তু একাএকা থাকতে থাকতে তার জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। সে সবকিছু বিক্রি করে দিয়ে এসে ওঠে একটি বৃদ্ধাশ্রমে।
  এখানে এসে সে আস্তে আস্তে পুরনো কষ্টটা ভুলে যেতে থাকে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে জীবন থেকে তার আর কিছুই চাওয়া কিংবা পাওয়ার নেই। সকলে মিলেমিশে এখানে দিনগুলি বেশ ভালই কাটছিল। সুন্দর থাকা খাওয়া, অসুস্থ হলে চিকিৎসা করা সবকিছুই নিয়ম মেনে চলে। সকলের সাথে সকলের খুব ভালো সম্পর্কও । 
   বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের ছানি পড়া অতি স্বাভাবিক। এই বৃদ্ধাশ্রমে যখন যে অসুস্থ হয় তার প্রোপার ট্রিটমেন্ট সময় মতোই হয়। সেই মতোই বিদিশার চোখের ছানি দু'দিন আগে অপরেশন হয়।
  ।কিন্তু হঠাৎ এখানে উজানকে দেখতে পেয়ে বিদিশা বেশ অবাক হয় । এখানে বেশ কয়েক বছর থাকার ফলে অনেকের সাথেই পরিচয় হয়েছে। উজানকে দেখার দিন সাতেক পরে সে অফিস রুমে গিয়ে উজান সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারে তার ছেলে বিয়ের পর তার বাবাকে বাড়িতে ঠাঁই দেয়নি। তাকে দেখে গেছে বৃদ্ধাশ্রমে। তার স্ত্রী মারা গেছেন, মাস তিনেক আগে। উজানের গলায় একটি টিউমার হয়েছিল। সেই টিউমার দুইবার অপসারণ করতে হয়। এর ফলে নানান জটিলতার সৃষ্টি হয়। এখন আর উজান আগের মত কথা বলতে পারে না। কথা বলে কিন্তু খুব আস্তে আস্তে। মুখের কাছে কান নিয়ে তার কথা শুনতে হয়। সবকিছু শুনে নিজের অজান্তেই বিদিশার মনটা খারাপ হয়ে যায়। 
 বেশ কয়েকদিন পর বিদিশা একজন কর্মচারীকে সাথে নিয়ে উজানের ঘরে যায়। উজান ফ্যাল ফ্যাল করে বিদিশার দিকে তাকিয়ে থাকে। তার চোখ থেকে টপটপ করে জল পড়তে থাকে। বিদিশা বুঝতে পারে উজান তাকে চিনতে পেরেছে। সে হাতজোড় করে বিদিশার কাছে ক্ষমা চায়। উজান আস্তে আস্তে বিদিশাকে অনেক কথাই বলে। কিন্তু বিদিশার কান অব্দি সে কথা পৌছায় না। বিদিশা খুব একটা চেষ্টাও করে না ওই কথা শুনবার। সে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে নিজের অবাধ্য চোখদুটিকে আঁচলের সাহায্যে পরিষ্কার করে নেয়। কিন্তু বেরিয়ে আসবার সময় সে উজানের দিকে যখন তাকিয়ে পড়ে তখন সে বুঝতে পারে উজান ইশারায় তাকে আবারো আসতে বলল।

২-৩-২৬