Tuesday, November 3, 2020

সুখের ঘরে আগুন ( তৃতীয় পর্ব )

সুখের  ঘরে  আগুন  ( তৃতীয়  পর্ব ) 

        রাধাদেবী  এই  ঘটনার  পর  বেশ  কয়েকদিন  মুখ  গোমড়া  করেই  চললেন  | স্বামীর  সাথে  কোন  কথাই  আর  বলেননা  | যখন  মেয়ে  বাড়ি  থাকে  তখন  দরকার  হলে  " তোর  বাবাকে  বল  , তোর  বাবাকে  খেতে  ডাক "- করেই  চালিয়ে  যান  | আর  মেয়ে  বাইরে  থাকলে  স্বামীর  সামনে  দাঁড়িয়ে  শূন্যে  কথা  ছুঁড়ে দেন  | বাবা  মায়ের  এই  মান অভিমানের  পালাটা অম্বিকা  বেশ  এনজয়  করছে  | তার  মনেহচ্ছে  বাবা , মা  যেন  কয়েক  যুগ আগে  ফিরে গেছে  | মাঝে  মাঝে  সেও  গম্ভীর  স্বরে  মাকে  কখনো  বা  বাবাকে  বলছে  ,
"আমি  বেরোবো  বা  আমি  ঘুমাতে  যাবো - তোমাদের  কাউকে  কিছু  বলার  থাকলে  বলো  তাড়াতাড়ি  আমার  নুতন  সংযোজন  হওয়া কাজটা  শেষ  করে  যাই "- এতে  অমলবাবু  একটু  মুচকি  হাসলেও  রাধাদেবী  আরও ক্ষেপে  গিয়ে  দুমদাম  পা  ফেলে  অন্যদিকে  চলে  যান  |
  এইভাবে  বেশ  কয়েকটা  দিন  কেটে  যাওয়ার  পর  একদিন  অমলবাবু  অম্বিকা  পড়ার  সময়  তার  ঘরে  গিয়ে  ঢোকেন  যাতে  রাধাদেবী  টের  না  পান  | তিনি  তখন  টিভিতে  শ্রীময়ী  নিয়ে  টিভির  ভিতরেই  ঢুকে  বসে  আছেন  | আশেপাশে  কি  হচ্ছে  তা  তার  কর্ণগোচর  হওয়ার  কোন  সম্ভাবনায়  নেই  | বাবাকে  ঘরে  ঢুকতে  দেখে  অম্বিকা  জানতে  চাইলো ,
--- কোন  গোপন  পরামর্শ  বাবা ? দেখো  মা  এমনিতেই  ক্ষেপে  বোম হয়ে  আছে  এরপরে  যদি  এসে  দেখেন  আমি  আর  তুমি  দুজনে  মিটিংয়ে  ব্যস্ত  তাহলে  কিন্তু  রক্ষে  থাকবেনা  |
 কথাগুলো বলে  অম্বিকা  হাসতে লাগলো   আর   অমলবাবুও  মেয়ের  সাথে  যোগ  দিলেন  হাসিতে  |
--- শোন  নারে  তোর  সাথে  সত্যিই  একটা  দরকারি  কথা  আছে  |
--- হ্যাঁ বলো  |
--- তুই  কি  নরেশবাবুর  ছেলেটাকে  দেখেছিস  ?
--- হ্যাঁ চিনি  তো -- কেন  বলো  তো  ?
--- না  বলছিলাম  ছেলেটা  নাকি  কেন্দ্রীয়  সরকারের  অধীনে  চাকরি  করে  | তা  দেখতে  কেমন  রে  ছেলেটাকে  ?
 অম্বিকা  চোখ  পাকিয়ে  বাবার  দিকে  তাকিয়ে  বললো  ,
--- তোমার  মতলবখানা  কি  বাবা ? তোমার  মাথায়  কি  মায়ের  মাথার  ভূতটা এসে  বসেছে  --- তারপর  একটু  নড়েচড়ে  আবারও বলতে  শুরু  করলো ,
 আচ্ছা  আচ্ছা  এবার  বুঝেছি  -- মায়ের  অভিমান  ভাঙ্গানোর জন্য  আমার  বিয়ে  দিতে  রাজি  হচ্ছো --- না  , কিছুতেই  তোমার  এ  মতলবে  আমি  সায় দিতে  পারছিনা  | জীবনে  এই  প্রথমবার  তোমার  কথা  রাখতে  পারলামনা  বাবা  ---
 অমলবাবু  মেয়ের  মুখের  দিকে  ফ্যালফ্যাল  করে  তাকিয়ে  থাকলেন  কিছুক্ষণ তারপর  বললেন , 
--- না  আসলে  ভাবছিলাম  পাড়ার  ভিতর  আবার  পড়াশুনা , চাকরি  করাতে তাদের  কোন  আপত্তি  নেই--
 কথা  শেষ  করার  আগেই  অম্বিকা  উঠে  গিয়ে  তার  বাবার  গলাটা  জড়িয়ে  ধরে  বলে ,
--- এসব  কথা  আমার  বাবাকে  মানায়না  | আগে  আমাকে  নিজের  পায়ে  মাথা  উঁচু  করে  দাঁড়াতে  দাও  | তারপর  তোমরা  যে  ছেলের  গলায়  মালা  পরাতে বলবে  আমি  পরিয়ে দেবো | প্লিজ  বাবা  আমার  স্বপ্নটাকে  এভাবে  মেরে  ফেলোনা | 
 অমলবাবু  মেয়ের  মাথাটাকে  বুকের  সাথে  চেঁপে ধরে  বলেন  ,
-- কয়েকটা  দিনের   জন্য  আমার  বুদ্ধি  বিভ্রম  হয়েছিল  মনেহচ্ছে  | ঠিকই  বলেছিস  মা তোর  মায়ের  মাথার  ভূতটাই আমার  মাথায়  চেঁপে  বসেছিল  | 
 একথা  বলেই  তিনি  হাসতে শুরু  করেন  সাথে  অম্বিকাও  |

 ক্রমশঃ -
 

No comments:

Post a Comment