সুখের ঘরে আগুন ( তৃতীয় পর্ব )
রাধাদেবী এই ঘটনার পর বেশ কয়েকদিন মুখ গোমড়া করেই চললেন | স্বামীর সাথে কোন কথাই আর বলেননা | যখন মেয়ে বাড়ি থাকে তখন দরকার হলে " তোর বাবাকে বল , তোর বাবাকে খেতে ডাক "- করেই চালিয়ে যান | আর মেয়ে বাইরে থাকলে স্বামীর সামনে দাঁড়িয়ে শূন্যে কথা ছুঁড়ে দেন | বাবা মায়ের এই মান অভিমানের পালাটা অম্বিকা বেশ এনজয় করছে | তার মনেহচ্ছে বাবা , মা যেন কয়েক যুগ আগে ফিরে গেছে | মাঝে মাঝে সেও গম্ভীর স্বরে মাকে কখনো বা বাবাকে বলছে ,
"আমি বেরোবো বা আমি ঘুমাতে যাবো - তোমাদের কাউকে কিছু বলার থাকলে বলো তাড়াতাড়ি আমার নুতন সংযোজন হওয়া কাজটা শেষ করে যাই "- এতে অমলবাবু একটু মুচকি হাসলেও রাধাদেবী আরও ক্ষেপে গিয়ে দুমদাম পা ফেলে অন্যদিকে চলে যান |
এইভাবে বেশ কয়েকটা দিন কেটে যাওয়ার পর একদিন অমলবাবু অম্বিকা পড়ার সময় তার ঘরে গিয়ে ঢোকেন যাতে রাধাদেবী টের না পান | তিনি তখন টিভিতে শ্রীময়ী নিয়ে টিভির ভিতরেই ঢুকে বসে আছেন | আশেপাশে কি হচ্ছে তা তার কর্ণগোচর হওয়ার কোন সম্ভাবনায় নেই | বাবাকে ঘরে ঢুকতে দেখে অম্বিকা জানতে চাইলো ,
--- কোন গোপন পরামর্শ বাবা ? দেখো মা এমনিতেই ক্ষেপে বোম হয়ে আছে এরপরে যদি এসে দেখেন আমি আর তুমি দুজনে মিটিংয়ে ব্যস্ত তাহলে কিন্তু রক্ষে থাকবেনা |
কথাগুলো বলে অম্বিকা হাসতে লাগলো আর অমলবাবুও মেয়ের সাথে যোগ দিলেন হাসিতে |
--- শোন নারে তোর সাথে সত্যিই একটা দরকারি কথা আছে |
--- হ্যাঁ বলো |
--- তুই কি নরেশবাবুর ছেলেটাকে দেখেছিস ?
--- হ্যাঁ চিনি তো -- কেন বলো তো ?
--- না বলছিলাম ছেলেটা নাকি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে চাকরি করে | তা দেখতে কেমন রে ছেলেটাকে ?
অম্বিকা চোখ পাকিয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে বললো ,
--- তোমার মতলবখানা কি বাবা ? তোমার মাথায় কি মায়ের মাথার ভূতটা এসে বসেছে --- তারপর একটু নড়েচড়ে আবারও বলতে শুরু করলো ,
আচ্ছা আচ্ছা এবার বুঝেছি -- মায়ের অভিমান ভাঙ্গানোর জন্য আমার বিয়ে দিতে রাজি হচ্ছো --- না , কিছুতেই তোমার এ মতলবে আমি সায় দিতে পারছিনা | জীবনে এই প্রথমবার তোমার কথা রাখতে পারলামনা বাবা ---
অমলবাবু মেয়ের মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলেন কিছুক্ষণ তারপর বললেন ,
--- না আসলে ভাবছিলাম পাড়ার ভিতর আবার পড়াশুনা , চাকরি করাতে তাদের কোন আপত্তি নেই--
কথা শেষ করার আগেই অম্বিকা উঠে গিয়ে তার বাবার গলাটা জড়িয়ে ধরে বলে ,
--- এসব কথা আমার বাবাকে মানায়না | আগে আমাকে নিজের পায়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দাও | তারপর তোমরা যে ছেলের গলায় মালা পরাতে বলবে আমি পরিয়ে দেবো | প্লিজ বাবা আমার স্বপ্নটাকে এভাবে মেরে ফেলোনা |
অমলবাবু মেয়ের মাথাটাকে বুকের সাথে চেঁপে ধরে বলেন ,
-- কয়েকটা দিনের জন্য আমার বুদ্ধি বিভ্রম হয়েছিল মনেহচ্ছে | ঠিকই বলেছিস মা তোর মায়ের মাথার ভূতটাই আমার মাথায় চেঁপে বসেছিল |
একথা বলেই তিনি হাসতে শুরু করেন সাথে অম্বিকাও |
ক্রমশঃ -
No comments:
Post a Comment